আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিল ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক রিটায়ার্ড স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার আগরতলায় জগন্নাথবাড়ি রোডস্থিত স্টুডেন্ট হেলথ হোমে সংগঠনের দ্বি-বার্ষিক রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনকে ঘিরে সংগঠনের সদস্য ও প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
এদিনের সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএফআরআরআরবিএস -এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক গণপতি হেগরে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক রিটায়ার্ড স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক কমরেড মানস রায়। এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে সংগঠনের বিগত দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মীদের সমস্যা এবং আগামী দিনে গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা, চিকিৎসা সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন দাবির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সম্মেলন থেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মীদের বৃহত্তর স্বার্থে সর্বভারতীয় স্তরে আরও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের একই ছাতার তলায় এনে তাঁদের অভিন্ন দাবিগুলি নিয়ে সংগঠিতভাবে আন্দোলন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ রঞ্জন দেবনাথ বলেন, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাঁদের দাবিগুলি যথাযথভাবে তুলে ধরতে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স চালু করা এবং সেই ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বহন করার দাবিও জানানো হবে।
তিনি জানান, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তাঁদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এই দাবিকে সামনে রেখে আগামী দিনেও সংগঠনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
সম্মেলনে বক্তারা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা, তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদান এবং অবসর-পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে বৃহত্তর পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

