আগরতলায় পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈঠক, শিল্প বিকাশে আশাবাদী মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী

আগরতলা, ১১ জুলাই  : ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগরতলায় পর্যটন দফতরের উদ্যোগে রাজ্যের পর্যটন খাতের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।

সভায় রাজ্যের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা, পর্যটন পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটকদের জন্য উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনাময় একটি রাজ্য। রাজ্যের পাহাড়, বনভূমি, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং জনজাতিদের সংস্কৃতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার প্রসার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। সেই কারণে পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সরকার একটি ইতিবাচক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

বৈঠকে উপস্থিত বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন পরামর্শ, দাবি ও সমস্যার বিষয়গুলি মনোযোগ সহকারে শোনা হয়। পর্যটনমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা এবং অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের তরফে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, সভায় উপস্থিত বিনিয়োগকারীরাও রাজ্যের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একাধিক গঠনমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁরা পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, আবাসন পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন প্রচারে আরও জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও, পর্যটনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র যেমন ইকো-ট্যুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ধর্মীয় পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের উন্নয়নের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার প্রস্তাব উঠে আসে।

সভায় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ত্রিপুরাকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের উদ্যোগ এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী দিনে ত্রিপুরার পর্যটন শিল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *