পরকীয়া হাতেনাতে! প্রতিবাদ করতেই গৃহবধূর মাথা ফাটাল স্বামী ও বান্ধবী, হাসপাতালে ৯ মাসের শিশুর মা

আগরতলা, ২৬ অক্টোবর  : পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্বামী ও তাঁর কথিত বান্ধবীর হাতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর জখম হলেন গৃহবধূ। ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাতে রাজধানীর দশমী ঘাট সংলগ্ন মহাবীর ক্লাব এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আহত গৃহবধূ পূর্ণিমা সরকার বর্তমানে আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার খবর পেয়ে মহাবীর ক্লাবের সদস্যরা এগিয়ে আসেন এবং দমকল বাহিনীর কর্মীদের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলাই সরকারের দশমী ঘাট সংলগ্ন এলাকায় সাইকেল ও রিকশা মেরামতের দোকান রয়েছে। মহাবীর ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় তাঁর বাড়ি। স্ত্রী পূর্ণিমা সরকার এবং মাত্র নয় মাসের এক শিশুকন্যাকে নিয়ে তাঁর সংসার। কিন্তু গত তিন মাস ধরে ‘বুড়ি’ নামে এক মহিলাকে কেন্দ্র করে তাঁদের সংসারে অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ পূর্ণিমার।

গৃহবধূর অভিযোগ, ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর স্বামীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ ছিল তাঁর। অভিযোগ, প্রায় প্রতি রাতেই বন্ধুদের নিয়ে ওই মহিলার বাড়িতে সময় কাটাতেন বলাই সরকার। এই বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অশান্তি বাড়ছিল বলেও দাবি তাঁর।

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও স্বামী বাড়ি না ফেরায় সন্দেহ হয় পূর্ণিমার। তিনি স্বামীকে ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চান। উত্তরে বলাই সরকার দোকানে কাজ করছেন বলে জানান। কিন্তু স্বামীর কথায় সন্দেহ হওয়ায় পূর্ণিমা পাশের একটি দোকানে ফোন করে খোঁজ নেন। সেখান থেকে অন্য তথ্য পাওয়ার পর আর দেরি না করে তিনি সংশ্লিষ্ট মহিলার বাড়ির দিকে ছুটে যান।

অভিযোগ, সেখানে পৌঁছে তিনি স্বামী বলাই সরকার, তাঁর এক বন্ধু এবং ওই মহিলাকে একসঙ্গে দেখতে পান। এই পরিস্থিতিতে স্বামীর কাছে কৈফিয়ত চান পূর্ণিমা। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পূর্ণিমার অভিযোগ, এরপর তাঁর স্বামী ও ওই মহিলা মিলে তাঁকে মারধর করেন। এমনকি ইট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এতে গুরুতর জখম হন তিনি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মহাবীর ক্লাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে তাঁরা দমকল বাহিনীর কর্মীদের সহযোগিতায় আইজিএম হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পূর্ণিমা জানান, গত তিন মাস ধরে ওই মহিলাকে কেন্দ্র করে তাঁর সংসারে অশান্তি চলছে। লক্ষ্মীপুজোর রাতেও সেই অশান্তির পরিণতি এমন ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছাবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।

এদিকে, ঘটনার পর রাতেই মহাবীর ক্লাবের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে বটতলা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

উৎসবের রাতে যখন ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন, তখনই রাজধানীর বুকে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে মাত্র নয় মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে ওই পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *