জাতীয় ঐক্যের বার্তা নিয়ে খোয়াইয়ে ‘রান ফর ইউনিটি’, পুলিশের উদ্যোগে সম্প্রীতির দৌড়

খোয়াই, ২৬ অক্টোবর : লৌহপুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আদর্শকে পাথেয় করে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে খোয়াই জেলা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ‘রান ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি। সোমবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা দৌড় ও র‍্যালির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও সম্প্রীতিপূর্ণ ভারত গড়ার আহ্বান জানান।

সোমবার সকাল ৭টায় খোয়াই জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন নৃপেন চক্রবর্তী এভিনিউ থেকে ‘রান ফর ইউনিটি’ কর্মসূচির সূচনা হয়। সেখান থেকে র‍্যালিটি শহরের একাধিক রাস্তা পরিক্রমা করে। কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। জাতীয় ঐক্যের ভাবনাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলার পুলিশ সুপার ভোগাটি জগদীশ্বর রেড্ডি সহ আরক্ষা দফতরের অন্যান্য আধিকারিক ও পুলিশকর্মীরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জেলা পুলিশ সুপারের ছোট্ট শিশুপুত্রও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। তার উপস্থিতি কর্মসূচিতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। প্রজন্মের পর প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তাও যেন এই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উঠে আসে।

দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করেই ‘রান ফর ইউনিটি’র আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে অখণ্ড ভারত গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আজও দেশবাসীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে জাতি, ধর্ম, ভাষা ও আঞ্চলিক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ঐক্য অটুট রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

খোয়াই জেলা পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় সংহতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করা। শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবেই নয়, বরং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের অঙ্গীকার হিসেবেও এই দৌড়ের তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে খোয়াই জেলা পুলিশের ‘রান ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি জাতীয় ঐক্যের আদর্শকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল। দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা এবং ঐক্যবদ্ধ ভারতের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার বার্তা দিয়েই শেষ হয় এই কর্মসূচি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *