কাঞ্চনপুর, ২৬ অক্টোবর : দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ৪৪টি দিন। কিন্তু এখনও নিখোঁজ নাবালিকার কোনও সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিনের পর দিন পুলিশের দরজায় ঘুরেও মিলেছে শুধু হতাশা—এমনই অভিযোগ নিখোঁজ নাবালিকার পরিবারের। দীর্ঘ অপেক্ষা এবং পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষের জেরে শেষ পর্যন্ত সোমবার উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর থানায় ধর্নায় বসতে বাধ্য হলেন নাবালিকার বাবা-মা-সহ ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। তাঁদের একটাই দাবি, আর আশ্বাস নয়, দ্রুত উদ্ধার করতে হবে নিখোঁজ নাবালিকাকে।
উত্তর জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমাধীন সাতনালা এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪৪ দিন ধরে নাবালিকার কোনও সন্ধান না মেলায় তাঁরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও তাঁরা কোনও সন্তোষজনক অগ্রগতির খবর পাননি। এমনকি আগরতলায় গিয়েও হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে নাবালিকার বাবাকে। পরিবারের দাবি, মেয়ের সন্ধানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি।
একটি নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর এত দিন পেরিয়ে গেলেও কেন তার কোনও সন্ধান মিলল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতিটি দিন তাঁদের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠছে। অথচ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁরা স্পষ্ট কোনও তথ্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা এবং তদন্তের গতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীদের মধ্যেও।
পরিবারের অভিযোগ, বারবার আবেদন-নিবেদন করেও যখন কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি সামনে আসেনি, তখন বাধ্য হয়েই থানায় ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সোমবার নাবালিকার বাবা-মা-সহ গ্রামবাসীরা কাঞ্চনপুর থানায় গিয়ে ধর্নায় বসেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও পরিবারকে যেন নিজের সন্তানকে খুঁজে পাওয়ার দাবিতে এভাবে থানার সামনে বসতে না হয়। নিখোঁজ নাবালিকার সন্ধান বের করতে পুলিশকে আরও সক্রিয় ও তৎপর হওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
ধর্নাকারীদের অভিযোগ, কাঞ্চনপুর থানার ওসি শ্রীকান্ত রুদ্রপালের কাছ থেকে তাঁরা সন্তোষজনক আশ্বাস পাননি। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত উত্তর জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাইয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা। নাবালিকা উদ্ধারে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। পরিবারের কাছে বিষয়টি এখন শুধু নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান পাওয়ার লড়াই নয়, বরং তদন্তের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করার প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।
অবশেষে উত্তর জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই ফোনে ধর্নাকারীদের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি সাত দিনের মধ্যে নিখোঁজ নাবালিকাকে উদ্ধারের আশ্বাস দেন। পুলিশ সুপারের এই প্রতিশ্রুতির পর সোমবার সন্ধ্যা ৫টা নাগাদ ধর্না প্রত্যাহার করেন নাবালিকার পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা।
তবে সাত দিনের এই আশ্বাসে আপাতত ধর্না প্রত্যাহার হলেও পরিবারের উৎকণ্ঠা যে কাটেনি, তা স্পষ্ট। দীর্ঘ ৪৪ দিনের অপেক্ষার পর তাঁরা এখন পুলিশের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাঁদের বক্তব্য, মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ৪৪ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক নাবালিকার সন্ধান পেতে আরও সাত দিন অপেক্ষা করতে হবে কেন? তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এত দিনেও কেন কোনও সুনির্দিষ্ট ফল সামনে এল না, তা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগের যথাযথ জবাব দেওয়া জরুরি। যদিও তদন্তের প্রকৃত অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য জানা যায়নি।
একটি অসহায় পরিবারের কাছে প্রতিটি মুহূর্তই এখন উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তায় ভরা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন বাবা-মা। তাই সাত দিনের প্রতিশ্রুতি যেন নিছক আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেই দাবিই উঠছে এলাকাজুড়ে।

