ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে কংগ্রেসের মহাসমাবেশ ১ নভেম্বর, ত্রিপুরা থেকেও যোগ দেবেন কর্মীরা

আগরতলা, ২৬ অক্টোবর  : দেশবাসীর ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে উদ্যোগী হয়েছে কংগ্রেস। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বৃহৎ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই সমাবেশকে সফল করার প্রস্তুতি চলছে। ত্রিপুরা থেকেও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা ওই সমাবেশে যোগ দেবেন বলে জানালেন এআইসিসি মনোনীত সদর জেলা কংগ্রেস কমিটির পর্যবেক্ষক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী প্রদীপ জৈন।

সোমবার আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদীপ জৈন জানান, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেস আন্দোলন আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইন্ডি জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশের মাধ্যমে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিকে জাতীয় স্তরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের প্রতিটি জেলা কংগ্রেস সংগঠন থেকে ১০০ জন করে কর্মীকে সমাবেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনিক প্রস্তুতি চলছে। ত্রিপুরার প্রতিটি জেলা থেকেও কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন প্রদীপ জৈন। তাঁর অভিযোগ, দেশের মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে ভোটাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতীয় সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রদীপ জৈন বলেন, সংবিধানপ্রদত্ত ভোটাধিকারের মর্যাদা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি করেন তিনি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন কংগ্রেসের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালনের পরিবর্তে বিজেপির মুখপাত্রের মতো আচরণ করছে। যদিও এগুলি কংগ্রেসের রাজনৈতিক অভিযোগ, তবুও এই অভিযোগকে সামনে রেখেই দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রদীপ জৈনের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করা গণতন্ত্রের স্বার্থেই অপরিহার্য।

কংগ্রেসের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রদীপ জৈন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ে কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী কারাবরণ করেছেন এবং প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের পাশাপাশি দেশের সংবিধান প্রণয়নেও কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, যে সংবিধান দেশের নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করেছে, সেই সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে কংগ্রেসের এই আন্দোলন।

প্রদীপ জৈন আরও জানান, ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায় শুরু হওয়ার কথা। ওই দিন আগরতলাতেও ইন্ডি জোটের রাজ্য শাখার উদ্যোগে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে ভোটাধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার বিষয়টি সামনে রেখে এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। এরপর ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বৃহৎ সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কংগ্রেস।

সব মিলিয়ে, ভোটাধিকার সুরক্ষা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিকে সামনে রেখে জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে কংগ্রেস। দিল্লির সমাবেশে কতটা জনসমাগম হয় এবং ত্রিপুরা থেকে কত সংখ্যক কর্মী-সমর্থক অংশ নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *