বিজনেস কনক্লেভে পশুপালন ও ডেয়ারি খাতে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

আগরতলা, ৭ জুলাই : রাজ্যে পশুপালন ও ডেয়ারি শিল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করল প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতর। একইসঙ্গে আসন্ন ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভে পশুপালন ও ডেয়ারি খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক সেমিনারে এই বার্তা উঠে আসে।

‘পশুসম্পদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ’ শীর্ষক এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের সচিব দীপা ডি নায়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দফতরের অধিকর্তা ডঃ এনকে চঞ্চল, বিভিন্ন জেলার পশুচিকিৎসক, প্রাণী সম্পদ দফতরের আধিকারিক এবং অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত বিশেষজ্ঞরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সচিব দীপা ডি নায়ার বলেন, গত পাঁচ বছরে ত্রিপুরায় পশুপালন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দুধ, মাংস ও অন্যান্য প্রাণীজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পশুপালনের প্রতি মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশুদের মধ্যে দেখা দেওয়া নতুন ও উদীয়মান রোগ সম্পর্কে পশুচিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এমন অনেক রোগ রয়েছে যা পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। তাই ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে সামনে রেখে পশু ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে রোগ প্রতিরোধ, নজরদারি এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের অধিকর্তা ডঃ এনকে চঞ্চল বলেন, রাজ্যে পশুপালন খাত দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ফলে খামারভিত্তিক পশুপালন ও ডেয়ারি শিল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ইতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেই আসন্ন ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভে পশুপালন ও ডেয়ারি খাতে বড় পরিমাণ বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, সম্ভাব্য এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে আধুনিক ডেয়ারি ফার্ম, পশুপালন অবকাঠামো, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিকাশ ঘটবে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, উন্নত জাতের পশুপালন, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং রোগমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

সেমিনারে অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত বিশেষজ্ঞরা পশুর রোগ নির্ণয়, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, টিকাকরণ কর্মসূচি, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা পশুচিকিৎসকদের আধুনিক গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের কৌশল সম্পর্কেও অবহিত করেন।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী পশুচিকিৎসক ও আধিকারিকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও কার্যকর করে তুলবে। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে পশুসম্পদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং রাজ্যের প্রাণী সম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *