বন্যার ধাক্কা সামলে ফের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গোমতী প্রকল্প, লক্ষ্য ১৫ মেগাওয়াট

আগরতলা, ১০ অক্টোবর : ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ত্রিপুরার একমাত্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গোমতী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বন্যার জেরে প্রকল্পটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। এবার সেই ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে এই প্রকল্প থেকে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সকালে তীর্থমুখে আয়োজিত বাঁধের সুরক্ষা বিষয়ক একদিনের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে এই আশার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ।

ত্রিপুরা পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল ড্যাম সেফটি অথরিটির কারিগরি সহায়তায় এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গোমতী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাজ্য সরকার প্রকল্পটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী দিনে এই প্রকল্প থেকে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় গোমতী প্রকল্প আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৫৪ বছর আগে চালু হওয়া ত্রিপুরার একমাত্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের অর্থনীতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। গোমতী বাঁধের গুরুত্ব কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিকাজে জলসেচ, পানীয় জলের জোগান, নৌপরিবহণ এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশেও এই বাঁধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই গোমতী বাঁধের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্পটিকে পুনরায় কার্যকর করে তোলা রাজ্যের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং বিকল্প শক্তির উৎসকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার আগামী দিনে ছোট ছোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাঁধের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য নদীবাঁধ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাঁধের নিরাপত্তার সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, অর্থনীতি এবং পরিবেশের বিষয়গুলি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই বাঁধের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রঞ্জিত দাস এবং বিধায়ক সঞ্জয় মানিক ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বাঁধের সুরক্ষা ও জনসচেতনতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি নাটক পরিবেশন করে। পাশাপাশি ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী হজাগিরি নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বাঁধের সুরক্ষা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যুৎমন্ত্রী গোমতী জলপ্রপাত ও গোমতী বাঁধ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

২০২৪ সালের বন্যায় বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়া গোমতী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করে তোলার এই উদ্যোগ রাজ্যের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি পুরোপুরি সচল করে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করাই এখন রাজ্য সরকারের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে গোমতী প্রকল্প কত দ্রুত স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *