শান্তিরবাজার, ১২ অক্টোবর : লোকাল ট্রেনে অস্বাভাবিক ভিড়ের জেরে চরম দুর্ভোগের শিকার হলেন যাত্রীরা। বৈধ টিকিট কেটেও ট্রেনে উঠতে না পারার অভিযোগ উঠেছে বহু যাত্রীর পক্ষ থেকে। দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ি রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে যাতায়াত করতে গিয়ে এই পরিস্থিতির মুখে পড়েন তাঁরা। রেলযাত্রার জন্য নির্ধারিত ভাড়া দিয়েও গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা না মেলায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকেই ট্রেনে ওঠার সুযোগ পাননি। স্টেশন থেকে বৈধ টিকিট সংগ্রহ করার পরও ট্রেনে জায়গা না পেয়ে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয়। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয় সংশয়। বিশেষ করে জরুরি কাজে যাতায়াতকারী, কর্মসূত্রে বাইরে যাওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে রেলপথের উপর নির্ভরশীল যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।
লোকাল ট্রেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তুলনামূলক কম খরচে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর জন্য বহু মানুষ রেল পরিষেবার উপর নির্ভর করেন। কিন্তু ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে পরিষেবা ও যাত্রী ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা না থাকলে সাধারণ মানুষকে যে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়, জোলাইবাড়ি স্টেশনের এই অভিযোগ সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে।
যাত্রীদের বক্তব্য, রেল পরিষেবা গ্রহণের জন্য তাঁরা নিয়ম মেনেই টিকিট কাটেন। কিন্তু ট্রেনে ওঠার সুযোগ না পেলে তাঁদের যাতায়াতের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই যাত্রীদের সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিষেবা বৃদ্ধি এবং স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের ওঠানামার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে। পাশাপাশি, যে সমস্ত রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন বহু যাত্রী যাতায়াত করেন, সেখানে ভিড়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
টিকিট কেটেও যদি যাত্রীরা ট্রেনে ওঠার সুযোগ না পান, তাহলে রেল পরিষেবার কার্যকারিতা ও যাত্রীসুবিধা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। জোলাইবাড়ি রেলস্টেশনে যাত্রীদের এই দুর্ভোগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রেল কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

