বাজেট বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণে তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের প্রথম পর্যালোচনা বৈঠক

আগরতলা, ১ জুলাই : ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারের বরাদ্দকৃত বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে বুধবার তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের প্রথম পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগরতলার রাজ্য অতিথিশালা সোনার তরীতে আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তপশিলি জাতি কল্যাণ, প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও মৎস্য দফতরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের সচিব দীপা ডি নিয়ারসহ দফতরের বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট বরাদ্দের ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

একইসঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। যেসব প্রকল্প নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোতে পারেনি বা প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, সেগুলির কারণ বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে সেই সমস্যাগুলি দূর করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, সময়সীমা মেনে কাজ সম্পন্ন করা এবং উপভোক্তাদের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী সুধাংশু দাস জানান, সমাজের তপশিলি জাতিভুক্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কথায়, এই ধরনের বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে এবং যেখানে সমস্যা রয়েছে, সেখানে দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি দফতরের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধা যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি অর্থবর্ষের বাজেট পেশ ও অনুমোদনের প্রায় তিন মাস পর এই প্রথম দফতরের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ফলে বাজেট কার্যকর হওয়ার পর এতদিন কেন এ ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, অর্থবর্ষের শুরুতেই নিয়মিত পর্যালোচনা হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।

যদিও এই প্রসঙ্গে দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে বুধবারের বৈঠককে চলতি অর্থবর্ষে দফতরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *