আগরতলা, ১ জুলাই : আগরতলা শহরের উপকন্ঠে নন্দননগরের নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার পূর্ব আগরতলা মহিলা থানায় ডেপুটেশন প্রদান করল সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি। একই সঙ্গে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র দফতরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা স্বপ্না দত্ত।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি নন্দননগর এলাকায় জনৈক নাবালিকাকে টানা তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেই এদিন পূর্ব আগরতলা মহিলা থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
ডেপুটেশনের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা স্বপ্না দত্ত। ডেপুটেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, গত জুন মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও নাবালিকা নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র দফতর প্রশাসনিকভাবে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এর ফলেই রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্বপ্না দত্ত আরও বলেন, শুধু নন্দননগরের ঘটনাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দাখিল, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে বহু নির্যাতিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করতেও সাহস পাচ্ছেন না। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নারী সমিতির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, নন্দননগরের ঘটনায় জড়িত সকল অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, থানাগুলিতে সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরি এবং নির্যাতিতাদের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
ডেপুটেশন কর্মসূচিতে সংগঠনের অন্যান্য নেত্রী ও সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানিয়ে ভবিষ্যতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

