ধর্মনগর, ৩ আগস্ট : উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে ত্রিপুরা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের (সমবায় ব্যাঙ্ক) একটি শাখায় সোমবার দুপুরে ঘটে যায় এক উদ্বেগজনক দুর্ঘটনা। ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক লেনদেন চলাকালীন আচমকাই ভবনের ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে। ঘটনায় জনৈক মহিলা গ্রাহক ও একটি শিশু আহত হন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গেলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাঙ্ক চত্বরে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের ব্যস্ত সময়ে ব্যাঙ্কে গ্রাহকদের ভিড় ছিল। ঠিক সেই সময় আচমকা ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত গ্রাহক ও ব্যাঙ্ক কর্মীরা দ্রুত আহত মহিলা ও শিশুকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ভবনের স্থানীয় মালিক ব্যাঙ্কে পৌঁছান। তবে আহতদের অভিযোগ, তিনি ঘটনাটিকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে উপস্থিত কয়েকজনকে হুমকি-ধমকি দেন এবং আহতদের তেমন কিছু হয়নি বলে মন্তব্য করেন। এই আচরণে উপস্থিত অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ব্যাঙ্কের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানান, ভবনটির ছাদ মেরামতের জন্য মালিকপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো হলেও সম্প্রতি শুধু বাইরের অংশে রং করা হয়েছিল। কিন্তু ছাদের ভেতরের ফাটল ও দুর্বল অংশের সংস্কার করা হয়নি। ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর ধারণা।
ঘটনার পর ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ভবনটির অবস্থা যদি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তাহলে সেখানে প্রতিদিন শতাধিক গ্রাহক ও কর্মচারীর যাতায়াতের বিষয়টি কেন গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে ভবনটির প্রকৌশলগত পরীক্ষা (স্ট্রাকচারাল অডিট) করানো হোক। প্রয়োজনে ভবনটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট দপফতরের তত্ত্বাবধানে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মনগর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রশাসন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং ভবনের মালিকপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের। একই সঙ্গে আহতদের অভিযোগ এবং ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

