শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের কর্মীর মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে মহিলা কমিশন ঘেরাও মহিলা কংগ্রেসের

আগরতলা, ১ জুলাই : শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের মহিলা কর্মী মনীষা দাসের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে বুধবার রাজ্য মহিলা কমিশনের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস। পাশাপাশি, রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত মহিলা কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের কর্মী মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে এবং প্রকৃত সত্যকে আড়াল করা হচ্ছে।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের আগেই রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মন্তব্য করেছেন, যা একটি দায়িত্বশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অনভিপ্রেত। তাঁর দাবি, এ ধরনের মন্তব্য তদন্তের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, মহিলা কমিশনের প্রধান দায়িত্ব নির্যাতিত ও অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নিরপেক্ষভাবে তাঁদের অভিযোগের প্রতিকার করা। কিন্তু গত কয়েক বছরে কমিশন সেই ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, অনেক নির্যাতিতা সরকারি দফতরে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে না পারলেও মহিলা কমিশনের কাছে ন্যায়বিচারের আশায় যান। সেই আস্থা রক্ষায় কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী বলেন, এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। যদি মহিলা কমিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তাহলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, নির্যাতিত ও অসহায় মহিলাদের অধিকার রক্ষায় মহিলা কংগ্রেস তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, মহিলা কমিশনের কার্যালয় ঘেরাওকে কেন্দ্র করে মেলার মাঠ এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পশ্চিম মহিলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের কমিশনের কার্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে রাজ্য মহিলা কমিশন বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *