সিপিআইএম-কে ‘মিথ্যাচারের দল’ আখ্যা মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহার

আগরতলা, ১৬ জুলাই : বিলোনিয়া মহকুমার চোত্তাখলায় সিপিআইএম-এর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর মন্তব্যের জেরে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।  এই ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সরব হন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।  তিনি সিপিআইএম-কে ‘মিথ্যাচারের দল’ বলে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি মেলার মাঠে অবস্থিত সিপিআইএম ও তাঁদের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের কার্যালয়কে ‘মিথ্যাচারের ইনস্টিটিউট’ বলে মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিপিআইএম দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের সামনে তথ্য বিকৃত করে এবং মিথ্যা প্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করে আসছে।  তাঁর অভিযোগ, কীভাবে একটি বিষয়কে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা যায়, সেই কৌশল সিপিআইএম-এর রপ্ত রয়েছে।

চোত্তাখলায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলনেতা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তার কোনও ভিত্তি নেই।  বরং আন্দোলনের নামে সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকরাই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।  তাঁর বক্তব্য, ‘‘সিপিআইএম নেতারাই গুণ্ডার মতো আচরণ করছেন।  গতকালের ঘটনায় বিরোধী দলনেতার ভাষা ও আচরণ রাজ্যের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন।’’

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, যেসব পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অভিযোগ তুলছেন, তাঁদের অনেকেই বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।  কিন্তু বর্তমানে তাঁরা আইন ও প্রশাসনিক বিধি মেনেই কাজ করছেন এবং কোনও রাজনৈতিক দলের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছেন না।  সেই কারণেই বিরোধী শিবিরের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের মানুষ সবকিছু বুঝতে পারছেন।  রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা সফল হবে না।’’

অন্যদিকে, চোত্তাখলার আন্দোলন কর্মসূচির সময় পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিককে উদ্দেশ্য করে বিরোধী দলনেতার প্রকাশ্য মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।  সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে ‘ইডিয়ট’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।  শাসকদল বিষয়টিকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ বলে উল্লেখ করেছে।

এদিকে, বিরোধী শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।  তবে চোত্তাখলা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *