আগরতলা, ১৬ জুলাই : দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ার অভিযোগে শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদাররা। প্রথম পর্যায়ে আগরতলা সার্কেল-ওয়ান এলাকায় এই ধর্মঘট শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে তা রাজ্যের সমস্ত সার্কেলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে টিএসইসিএল কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।
বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির পর এবার ঠিকাদারদের ধর্মঘটের কারণে বিদ্যুৎ পরিষেবা রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি মেরামতির কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরাও।
বৃহস্পতিবার টিএসইসিএল কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংগঠনের অভিযোগ, ২০২৫ সালের দুর্গাপূজার প্রায় দুই মাস আগে থেকে অধিকাংশ ঠিকাদার তাঁদের কাজের বিল পাচ্ছেন না। বর্তমানে বকেয়া অর্থের পরিমাণ ১৫ কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি সংগঠনের।
বৈঠক শেষে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক স্বপন দাস সাংবাদিকদের জানান, এর আগেও তাঁরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। তবে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর অনুরোধ ও সম্মানের খাতিরে সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এবার তাঁরা আর পিছিয়ে আসতে রাজি নন।
তিনি বলেন, “আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার মতো অবস্থায় আমরা নেই। বহু ঠিকাদার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। বিলের টাকা চাইতে গেলে বিদ্যুৎ নিগমের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, টিএসইসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিশ্বজিৎ বসু ঠিকাদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন এবং তাঁর দফতরে গিয়েও উপযুক্ত সাড়া মিলছে না। এমনকি এমডি-র ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ)-র বিরুদ্ধেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদাররা।
স্বপন দাসের দাবি, “আমরা বহুবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনও ইতিবাচক সাড়া পাইনি। এই পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ রাখা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই।”
এদিকে টিএসইসিএল-এর এমডি বিশ্বজিৎ বসুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেছে সংগঠন। অভিযোগ, কিছু নির্দিষ্ট এবং পছন্দের ঠিকাদারদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হলেও অধিকাংশ ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া অর্থের জন্য অপেক্ষা করছেন।
সমস্যার সমাধানে টিএসইসিএল কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে মুখ্য সচিবের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি। এছাড়া বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কাছেও চারবার স্মারকলিপি ও চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঠিকাদারদের এই ধর্মঘট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটি মেরামতি, নতুন সংযোগ এবং অন্যান্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে টিএসইসিএল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

