নিয়মিত নজরদারি ও দ্রুত চিকিৎসায় ত্রিপুরায় কমেছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ, দাবি স্বাস্থ্য সচিবের

আগরতলা, ১৬ জুলাই : নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো সম্পূর্ণ চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ফলে ত্রিপুরায় ম্যালেরিয়া সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।  বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলায় অনুষ্ঠিত নিবিড় ম্যালেরিয়া নির্মূল প্রকল্পের অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির আঞ্চলিক পর্যালোচনা বৈঠকে এই তথ্য জানান রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে।  তিন দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা বৈঠক শনিবার পর্যন্ত চলবে।

আগরতলায় একটি বেসরকারি হোটেলে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে নিবিড় ম্যালেরিয়া নির্মূল প্রকল্পের আওতায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আঞ্চলিক পর্যালোচনা বৈঠক।  জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (এনএইচএম), ত্রিপুরা এবং ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের যৌথ উদ্যোগে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

পর্যালোচনা বৈঠকের শুভ সূচনা করেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিবিড় ম্যালেরিয়া নির্মূল প্রকল্পের আধিকারিক ডাঃ তনু জৈন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কিরণ গিত্তে বলেন, “ভারত সরকার এবং ত্রিপুরা সরকারের জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হল ম্যালেরিয়া নির্মূল করা। গত কয়েক বছরে নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচির ফলে রাজ্যে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”

তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যের একমাত্র ধলাই জেলায় কিছুটা ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রয়ে গেছে।  তবে বাকি জেলাগুলিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।  ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে বিশেষ করে রাবার বাগান, জুম চাষ এলাকা এবং লোকালয় সংলগ্ন জলাশয়গুলির উপর স্বাস্থ্য দপ্তর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, দুর্গম এবং বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তের নমুনা সংগ্রহ, মশারি বিতরণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।  এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল মিলছে।

এদিন বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিভিবিডিসি)-এর আধিকারিক ডাঃ তনু জৈন।  তিনি জানান, নিবিড় ম্যালেরিয়া নির্মূল প্রকল্প-৩-এর আওতায় ২০২৭ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলের জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে কেস-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।  পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমেও ম্যালেরিয়া নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী পর্বটি একটি বেসরকারি হোটেলে অনুষ্ঠিত হলেও, শুক্রবার এবং শনিবারের মূল কারিগরি ও পর্যালোচনা অধিবেশন আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত হবে।  সেখানে অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা নিজ নিজ রাজ্যের ম্যালেরিয়া পরিস্থিতি, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যালেরিয়া নির্মূলে তৃণমূল স্তরে নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বজায় রাখা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই রোগ নির্মূলের জাতীয় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *