আগরতলা, ২২ জুলাই : কেন্দ্রীয় সরকারের প্রণীত নতুন শ্রমকোড কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী একটি বিশেষ কর্মশালার সূচনা হয়েছে। বুধবার আগরতলায় সোনারতরী গেস্ট হাউসে শুরু হওয়া এই কর্মশালায় রাজ্য শ্রম দফতরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন। তিন দিন ধরে নতুন শ্রম আইন, তার বাস্তব প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা চলবে।
শ্রম দফতর সূত্রে জানা গেছে, কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য হল নতুন শ্রমকোড সম্পর্কে দফতরের আধিকারিকদের সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের স্বার্থরক্ষায় প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তোলা।
এই কর্মশালায় মিজোরাম, মণিপুর-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। তাঁরা নতুন শ্রমকোডের বিভিন্ন ধারা, আইন প্রয়োগের পদ্ধতি, শ্রমিকদের অধিকার, শিল্প প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করছেন। পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে আধিকারিকরা মাঠপর্যায়ে আইন কার্যকর করার সময় সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
রাজ্য শ্রম দফতরের যুগ্ম অধিকর্তা বিনয় ভূষণ দাস জানান, নতুন শ্রমকোডের আওতায় একাধিক পুরনো শ্রম আইনকে সমন্বিত করে একটি আধুনিক ও সহজ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সেই আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “এই কর্মশালার মাধ্যমে আধিকারিকরা নতুন শ্রমকোড সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করবেন। এর ফলে শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের কাজ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী আধিকারিকদের হাতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশ্নোত্তর পর্ব, কেস স্টাডি এবং বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে নতুন শ্রমকোডের বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
শ্রম দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে শ্রম প্রশাসনকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিন দিনের এই কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী আধিকারিকরা নিজ নিজ জেলায় ফিরে নতুন শ্রমকোড বাস্তবায়নে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

