আগরতলা, ২২ জুলাই: ত্রিপুরার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব খার্চি পূজা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। খয়েরপুরের ঐতিহাসিক চৌদ্দ দেবতা মন্দির প্রাঙ্গণে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং শত শত ভক্তের উপস্থিতিতে সূচনা হয় এই উৎসবের। আগামী সাত দিন ধরে চলবে খার্চি পূজা ও ঐতিহ্যবাহী মেলা। উৎসবকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
সকালে নির্ধারিত সময়ে পুরোহিতরা বৈদিক রীতি অনুসারে চৌদ্দ দেবতার বিশেষ পূজা, যজ্ঞ ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেন। ভক্তরা দেবতাদের দর্শন ও আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে ভোর থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। পূজার সূচনালগ্নে সমগ্র এলাকা ভক্তিময় পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
পূজার সঙ্গে সমান্তরালভাবে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী খার্চি মেলা। মেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা দোকান-পসরা সাজিয়েছেন। খেলনা, হস্তশিল্প, মিষ্টান্ন, স্থানীয় খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রীর দোকানে ইতিমধ্যেই ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও আয়োজন করা হয়েছে, যা উৎসবের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্য-সহ বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমান করা হয়েছে। সেই কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও রকম খামতি রাখা হয়নি। মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পূজা পরিচালনায় যুক্ত পুরোহিত জানান, “আজ বৈদিক রীতি অনুযায়ী খার্চি পূজার শুভ সূচনা হয়েছে। আগামী সাত দিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হবে। সকল ভক্তের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় এই পূজা সম্পন্ন করা হচ্ছে।”
এদিকে মন্দিরে আগত ভক্তদের মতে, খার্চি পূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ত্রিপুরার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রতি বছরের মতো এবারও এই উৎসব রাজ্যের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্যের গৌরব এবং উৎসবের আনন্দে আগামী সাত দিন খয়েরপুরের চৌদ্দ দেবতা মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে উঠবে ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকবে সমগ্র এলাকা, আর খার্চি পূজা আবারও তুলে ধরবে রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য পরিচয়।

