সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর : সাংবাদিকরা শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নন, সমাজের প্রতি তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্টের উদ্যোগে শনিবার আগরতলায় মহারানী তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত হলো মেগা রক্তদান শিবির ও নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি। এদিন প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্টের সাধারণ সম্পাদক শানিত দেবরায়, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব কিরণ গিত্তে, দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য এবং আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংবাদ সংগ্রহ ও মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি সাংবাদিকরা সমাজের প্রতি নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। রক্তদান শিবিরের আয়োজন তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তদানের মতো মহৎ কর্মসূচি আর হতে পারে না। একজন মানুষের দেওয়া রক্ত সংকটাপন্ন অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। রক্তদানের ক্ষেত্রে জাতপাত, ধর্ম কিংবা সামাজিক অবস্থানের কোনও ভেদাভেদ নেই। মানুষের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে সকলেই সমান—রক্তদান সেই মানবিকতারই অন্যতম প্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানুষের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও সাংবাদিকরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিনের কর্মসূচিতে রক্তদানের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকদের এই উদ্যোগে সাংবাদিক সমাজের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। রক্তদান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো মানবিক এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিকতার বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়।

অ্যাসেম্বলি অব জার্নালিস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের আরও বেশি করে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *