আগরতলা, ১২ আগস্ট : ত্রিপুরা সরকারের বিভিন্ন দফতরে মোট ৫৫২টি শূন্য পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি রাজ্যের চারটি স্থানে নতুন চারটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন, এক্স-সার্ভিসম্যানদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং রাজ্যের গর্বের মেয়ে অস্মিতা দে-কে আগরতলায় অভয়নগরে আড়াই গণ্ডা জমি প্রদানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিসভার মুখপাত্র তথা মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতরের পানীয় জল সরবরাহ বিভাগের অধীনে ১৮৫টি জুনিয়র পাম্প অপারেটর পদে নিয়োগ করা হবে। গ্রুপ-সি শ্রেণিভুক্ত এই পদগুলিতে নিয়োগ করবে জেআরবিটি। এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আইটিআই প্রশংসাপত্র থাকা আবশ্যক বলে জানান তিনি।
এছাড়াও আরকে নগরস্থিত ভেটেরিনারি কলেজের জন্য পশু কল্যাণ দফতরের মাধ্যমে ৫৭টি ফ্যাকাল্টি পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭টি প্রফেসর, ২০টি অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং ২০টি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদ। টিপিএসসি-র মাধ্যমে নিয়মিত বেতনক্রমে এই পদগুলিতে নিয়োগ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রিসভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ত্রিপুরা ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস গ্রেড-৫ এবং গ্রেড-৫ (এ ও বি ক্যাটাগরি)-তে মোট ৩১০টি পদ পূরণ করা হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দফতরে থাকা শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে রাজ্যের গর্বের মেয়ে অস্মিতা দে-কে আগরতলার অভয়নগর এলাকায় আড়াই গণ্ডা জমি প্রদানের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। অস্মিতার নামে ওই জমি প্রদানের ক্ষেত্রে ৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার ২৩৯ টাকার প্রিমিয়াম মুকুব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কৃতী সন্তানকে সম্মান ও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, রাজ্যের বক্সনগর, মনু বনকুল, গঙ্গানগর এবং গর্জি—এই চারটি স্থানে নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে অগ্নিকাণ্ড বা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও প্রাক্তন সেনাকর্মীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সব মিলিয়ে বুধবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে কর্মসংস্থান, সরকারি পরিষেবা সম্প্রসারণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ক্রীড়া ও প্রতিভার স্বীকৃতি এবং প্রাক্তন সেনাকর্মীদের কল্যাণ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিসভার মুখপাত্র সুশান্ত চৌধুরী।

