কৈলাসহর, ২৬ সেপ্টেম্বর : মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযানে সাফল্য পেল উনকোটি জেলা পুলিশ। কৈলাসহরের চিনিবাগান নাকা পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে একটি এরটিগা গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কোডিন ফসফেটযুক্ত নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া কফ সিরাপের পরিমাণ ৮০০ শিশি। জব্দ মাদকসামগ্রীর আনুমানিক কালোবাজারি মূল্য ১০ লক্ষ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক বহনে ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর আসে যে একটি গাড়িতে করে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ধর্মনগরের দিক থেকে কৈলাসহরের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর কৈলাসহর থানার ওসি-র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে নামে। একই সময়ে চিনিবাগান নাকা পয়েন্টে নিয়মিত নাকা তল্লাশি চলছিল। পরে থানার পুলিশ এবং নাকা পয়েন্টে মোতায়েন পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে সন্দেহভাজন এরটিগা গাড়িটিকে আটক করে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির সময় গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ৮০০ শিশি কোডিন ফসফেটযুক্ত কফ সিরাপ। এরপর গাড়িতে থাকা তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি গাড়িটিও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকরণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত আইন ও প্রোটোকল মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযানের সময় নিরপেক্ষ সাক্ষী এবং গেজেটেড অফিসার উপস্থিত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কৈলাসহর থানার পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে উদ্ধার হওয়া মাদকসামগ্রী কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, সেই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এই মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তারও সন্ধান চালানো হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি ধর্মনগরের দিক থেকে কৈলাসহরের দিকে আসছিল।
ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রঘুল এ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কৈলাসহর থানার পুলিশ এবং চিনিবাগান নাকা পয়েন্টে থাকা পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে সন্দেহভাজন গাড়িটি আটক করেন। গাড়ি থেকে ৮০০ শিশি কোডিন ফসফেটযুক্ত নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর মাত্র একদিন আগেই কুমারঘাট শহরে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের মাদকসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছিল। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কৈলাসহরের চিনিবাগান নাকা পয়েন্টে ফের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় উনকোটি জেলায় মাদক পাচার নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এদিকে, চিনিবাগান এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, এই রুট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সামগ্রী পাচার হয়ে আসছে। তাঁদের দাবি, নাকা তল্লাশিতে মাদক উদ্ধারের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর পিছনে থাকা মূল চক্রকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মাদক কারবারের সঙ্গে কোনও প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে স্থানীয়দের এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালানোর পাশাপাশি উনকোটি জেলার বিভিন্ন প্রবেশ ও বহির্গমন পথে নিয়মিত নজরদারি এবং ধারাবাহিক তল্লাশি চালানো প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, মাদক পাচারের উৎস, পরিবহণের পথ এবং গন্তব্য চিহ্নিত করে পুরো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই কারবারে লাগাম টানা সম্ভব হবে।

