পানিসাগরে চাঁদার জুলুম, গাড়ি ধাওয়া করে চালককে মারধরের অভিযোগ

ধর্মনগর, ২৬ সেপ্টেম্বর : আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে পানিসাগর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ছোট-বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বনজ সম্পদনির্ভর বৈধ ব্যবসা ও ইন্ডাস্ট্রির মালিকদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন ক্লাব ও পূজা উদ্যোক্তাদের চাঁদার চাপ সামলাতে তাঁদের নাজেহাল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পণ্যবাহী গাড়ি রাস্তায় থামিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে পানিসাগর ও ধর্মনগর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে টিআর০৫০৪৬০ নম্বরের একটি অল্টো গাড়িতে বন দফতরের বৈধ কাগজপত্রসহ আগর বোঝাই করে কদমতলা-রাজনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হোসেন কাঁঠালতলির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অভিযোগ, চারুবাসা এলাকায় কালীবাড়ি সংলগ্ন একটি ক্লাবের দুর্গোৎসবের কয়েকজন উদ্যোক্তা গাড়িটিকে থামার সংকেত দেন।

চাঁদা দেওয়ার আশঙ্কায় চালক গাড়ি না থামিয়ে ধর্মনগরের দিকে এগিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপরই ওই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৫-১৬টি বাইকে ২৫-৩০ জনের একটি দল গাড়িটির পিছু ধাওয়া করে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ধর্মনগরের অফিসটিলা এলাকায় গাড়িটিকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগ, সেখানে গাড়িচালককে নামিয়ে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে পুনরায় চারুবাসা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেও তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন।

পরে পানিসাগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি ও চালককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই ব্যবসায়ী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গাপূজার চাঁদা সংগ্রহের নামে প্রকাশ্য রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে টাকা দাবি করা এবং চালককে মারধরের মতো ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট গাড়ির কাছে বন দফতরের বৈধ কাগজপত্র থাকার দাবি ওঠার পরও কেন গাড়িটিকে আটকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ এবং চালককে মারধরের মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু পানিসাগর থানার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রত্যাশিত কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয়দের একাংশের আরও অভিযোগ, প্রশাসন ও পুলিশের যথাযথ নজরদারি না থাকায় দুর্গোৎসবের চাঁদা সংগ্রহের নামে কিছু উদ্যোক্তার দৌরাত্ম্য বাড়ছে। তাঁদের কটাক্ষ, “ঢাল নেই, তলোয়ার নেই—নিধিরাম সর্দার!” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এমন অভিযোগের ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা না নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবেন—সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বারবার কঠোর পদক্ষেপের কথা বলে আসলেও পানিসাগর মহকুমায় প্রকাশ্য রাস্তায় এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য পুলিশি তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়িচালক ও স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্লাব ও পূজা উদ্যোক্তাদের বক্তব্যও জানা প্রয়োজন। ঘটনার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *