আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর : শিক্ষকরাই শিক্ষাব্যবস্থার আসল কারিগর। শিক্ষকরা যত বেশি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের আপডেট করবেন, তত বেশি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের স্বনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রবিবার আগরতলায় মুক্তধারা অডিটোরিয়াম হলে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের সহযোগিতায় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের অধিকর্তা ডঃ সুমিত রায় চৌধুরী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্যসহ শিক্ষা ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন, কর্ম ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। শিক্ষার প্রসার, নারীশিক্ষার উন্নয়ন এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য বিদ্যাসাগরের ভূমিকার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং পরিবর্তিত কর্মসংস্থানের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদেরও নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরবেন না, তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রস্তুত করলেই হবে না। তাঁদের ভবিষ্যতে যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন এবং স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন, সেই মানসিকতা ও দক্ষতাও তৈরি করতে হবে। এই লক্ষ্যেই শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিভাবান ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষা দফতরের ‘সুপার থার্টি’ প্রকল্পের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘সুপার থার্টি’ প্রকল্পের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ১১ জন ছাত্রছাত্রী আইআইটিতে, ১৪ জন এমবিবিএস কোর্সে এবং ১৬ জন এনআইটিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এই সাফল্য রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত ও সাধারণ পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সামনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা পেলে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরাও জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শ ও শিক্ষা-ভাবনাকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান থেকে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

