আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর : দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে শনিবার রাজধানী আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করল পাঁচটি বামপন্থী দল। সিপিআইএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি এবং সিপিআই (এমএল)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং ভোটাধিকার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। পাঁচ বাম দল দেশব্যাপী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে বিক্ষোভ মিছিলটি একটি সমাবেশে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন পাঁচ বাম দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, সর্বভারতীয় কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই আগরতলায় এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান এবং মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে বলেও দাবি জানান তিনি।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এগুলি তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগের নিজস্ব ব্যাখ্যাও রয়েছে।
এসআইআর প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার দাবি জানান তিনি। পাঁচ বাম দলও এসআইআর স্থগিত করা এবং যাঁদের নাম ভুলভাবে বাদ পড়েছে তাঁদের ভোটাধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার বিভিন্ন সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জিতেন্দ্র চৌধুরী তাঁর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সোমবার টিটিএএডিসির ভিলেজ নির্বাচন। শনিবার তার সরব প্রচার শেষ হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী একটি জনসভাতেও যাওয়ার সুযোগ পাননি বলে কটাক্ষ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিরোধী দলগুলি সংসদের উভয় কক্ষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিতে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে খসড়া তৈরির কথাও জানিয়েছে বিরোধী শিবির।
এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং এসআইআর-সহ ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈঠকের আলোচ্য হতে পারে।

