বক্সনগর, ২৪ সেপ্টেম্বর : একদিকে সাত মাসের শিশুকন্যাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে শেষকৃত্যের জন্য সীমান্তের ওপারে নিজের বাড়িতে ফেরার তীব্র আকুতি। এই দুইয়ের মাঝে আদমপুর সীমান্তে শিশুর মৃতদেহ কোলে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলো শোকসন্তপ্ত পরিবারকে। পরিবারের অভিযোগ, ১৯২ নম্বর গেট খুলে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও দীর্ঘক্ষণ বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে সাড়া মেলেনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে গেট খুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্সনগর ব্লকের আদমপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা ওই পরিবারের সাত মাসের শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
শিশুকন্যার মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃত শিশুর দেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যের উদ্দেশ্যে নিজেদের বাড়ির দিকে রওনা হন। কিন্তু আদমপুর সীমান্তের ১৯২ নম্বর গেটের কাছে পৌঁছতেই তাঁদের সামনে তৈরি হয় নতুন সংকট।
পরিবারের অভিযোগ, সীমান্তের গেটটি বন্ধ থাকায় তাঁরা বিএসএফ-এর ডিউটিরত জওয়ানদের কাছে গেট খুলে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। কোলে তখন সাত মাসের শিশুর নিথর দেহ। স্বজনদের কান্না ও আকুতির মধ্যেও দীর্ঘ সময় গেট খোলা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে মৃত শিশুকে কোলে নিয়েই গেটের সামনে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পরিবারটি গেটের সামনে অবস্থান করলেও বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে গেট খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় সীমান্তবাসীদের মধ্যেও। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে গেট খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে দীর্ঘ সময় পর ১৯২ নম্বর গেট খুলে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর মৃত শিশুর দেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছতে পারেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শোকাহত একটি পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, সীমান্তের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি ও নিয়ম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জরুরি মানবিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে মৃতদেহ নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সংবেদনশীল ও মানবিক ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
যদিও ঘটনাটি নিয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে গেট বন্ধ রাখার সুনির্দিষ্ট কারণ বা ওই সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিএসএফ-এর বক্তব্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মৃত শিশুকে কোলে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ সীমান্তে অপেক্ষার এই ঘটনা এলাকায় গভীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

