তেলিয়ামুড়া, ২২ সেপ্টেম্বর : খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়ার মাইগঙ্গা চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার চাঞ্চল্যকর মোড়। প্রথমদিকে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, মৃতের পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগ দায়ের হওয়ায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কোনও শক্ত বস্তু দিয়ে আঘাত করে পরিকল্পিতভাবে ওই যুবককে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে। খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত মাইগঙ্গা চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পথ দুর্ঘটনা বলে অনুমান করা হয়েছিল। তবে মৃতদেহের পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর এবং পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় গোটা ঘটনাই নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত যুবকের নাম প্রবীর দে ওরফে জুন। তিনি তেলিয়ামুড়ার জয়নগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবারের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। পরবর্তীতে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
মৃতের পিতা প্রদীপ কুমার সরকারের অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে কোনও শক্ত বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি তেলিয়ামুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিবারের এই অভিযোগের পর ঘটনাটির তদন্তের গতিপথেও পরিবর্তন আসে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মৃতের পিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তেলিয়ামুড়া থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ধারায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তবে যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তিনি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, নাকি তাঁকে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, যুবকের গতিবিধি এবং মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কারও ভূমিকা ছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাইগঙ্গা চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমনিতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এবার সেই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হবে বলেই মনে করছে মৃতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

