বিশ্রামগঞ্জে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় পুলিশের জালে এক অভিযুক্ত

বিশ্রামগঞ্জ, ৭ নভেম্বর : সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জ থানাধীন সিলেটিয়ামুড়া এলাকায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের সন্ধান এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

উল্লেখ্য,  ৩০ অক্টোবর গভীর রাতে সিলেটিয়ামুড়া এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব দেবের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বাড়ির দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে চোরের দল। এরপর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতি কিংবা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, চোরের দল বাড়ি থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮০ হাজার টাকা এবং সঞ্জীব দেবের মেয়ের বিয়ের জন্য সযত্নে রাখা বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহ করে রাখা সামগ্রী ও সঞ্চিত অর্থ এক রাতেই খোয়া যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরই বিশ্রামগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। চুরির ধরন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য এবং অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। অবশেষে তদন্তের সূত্র ধরে গোপন খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার এক অভিযুক্তকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাঁকে থানায় রেখে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

বিশ্রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) অজিত দেববর্মা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে আটক অভিযুক্তকে বিশালগড় আদালতে পেশ করে পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। এই চুরির ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী পুলিশ।

পুলিশের লক্ষ্য, চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া। তবে ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর একজনকে আটক করা সম্ভব হলেও এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা কিংবা অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত, চুরি যাওয়া সামগ্রী কোথায় রয়েছে এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *