আগরতলা, ২৯ জুন : ত্রিপুরাকে দেশের অন্যতম মডেল রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে, তার ইতিবাচক প্রতিফলন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করে এমনটাই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। সোমবার আগরতলায় রাজ্য অতিথিশালায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
দুই দিনের রাজ্য সফরে রবিবার ত্রিপুরায় পৌঁছান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি প্রথমে উদয়পুরে অবস্থিত ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে পূজা দেন। এরপর গোমতী জেলার ওয়ান স্টপ সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মরত সুপারভাইজার ও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিষেবার মান, নির্যাতিতাদের পুনর্বাসন এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরে আগরতলায় ফিরে অভয়নগরের সিসিআই গার্লস ইউনিট–২, মহিলা আশ্রম সংলগ্ন ‘সক্ষম’ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং নির্মীয়মাণ কর্মজীবী মহিলাদের হোস্টেল ঘুরে দেখেন তিনি। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি, পরিকাঠামো ও উপভোক্তাদের জন্য প্রদত্ত পরিষেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে।
এরপর রাজ্য অতিথিশালায় সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বৈঠকে দফতরের বিভিন্ন প্রকল্প, কেন্দ্রীয় সরকারের কল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু সুরক্ষা, পুষ্টি, অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা, ওয়ান স্টপ সেন্টারের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি রাজ্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ত্রিপুরাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায়ও অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দফতরের কাজ পরিচালনা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরাকে দেশের মধ্যে একটি মডেল রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্যের অগ্রগতি সন্তোষজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাল্যবিবাহ রোধের বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অন্নপূর্ণা দেবী বলেন, সারা দেশে ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরাতেও সেই কর্মসূচি সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি পঞ্চায়েতকে বাল্যবিবাহমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের ফলে বাল্যবিবাহ রোধে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা, পুষ্টি এবং ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আরও জোর দেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজ্য সফরের শেষ দিনে, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী সিপাহীজলা জেলার নীরমহল পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী, স্বসহায়ক দল এবং সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেবেন বলে জানা গেছে।

