আগরতলা, ১৩ আগস্ট : রক্তের একমাত্র বিকল্প হল মানবতা। আর সেই মানবতার হাত বাড়িয়ে রক্তদান মানেই প্রাণদানের উৎসব। বিজ্ঞানীরা চাঁদ ও সূর্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত রক্তের কোনও বিকল্প আবিষ্কার করতে পারেননি। তাই মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের কোনও বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে একতা সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান ও স্বাস্থ্য শিবিরের উদ্বোধন করে এমনই বার্তা দিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার।
স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে একতা সংঘের প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার এই রক্তদান ও স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিল্পী দেওয়ান দাস, ১৩ প্রতাপগড় বিজেপি মণ্ডল কমিটির সভানেত্রী স্বপ্না দাস, যুব মোর্চার সভাপতি মনিশ চক্রবর্তী, একতা সংঘের সভাপতি সুখেন সাহা-সহ ক্লাবের অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপক মজুমদার বলেন, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অভাবনীয় উন্নতি করেছে। বিজ্ঞানীরা চন্দ্রাভিযানের পাশাপাশি সূর্যকে নিয়ে গবেষণা করছেন এবং মহাকাশের নানা রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মানুষের রক্তের কোনও কৃত্রিম বিকল্প তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষায় অন্য একজন মানুষের স্বেচ্ছায় দান করা রক্তই সবচেয়ে বড় ভরসা।
তিনি বলেন, “রক্তের একমাত্র বিকল্প হল মানবতা।” মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান শিবিরে এগিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, রক্তদান শুধুমাত্র একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, এটি প্রকৃত অর্থেই প্রাণদানের উৎসব। একজনের দান করা রক্তে অন্য একজন মুমূর্ষু মানুষের জীবন বেঁচে যেতে পারে। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
একতা সংঘের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এই ধরনের মানবিক কর্মসূচি গ্রহণের জন্য ক্লাবের কর্মকর্তা ও সদস্যদের অভিনন্দন জানান মেয়র। তিনি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের পাশাপাশি এই ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবিকতার বন্ধন আরও দৃঢ় করে।
এদিনের রক্তদান শিবিরে একতা সংঘের ৪০ জন ক্লাব কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। ক্লাব কর্মকর্তাদের এই উদ্যোগ উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি আয়োজিত স্বাস্থ্য শিবিরেও এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা গ্রহণ করেন।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে একতা সংঘের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন রক্তের মতো জীবনদায়ী সম্পদ সংগ্রহ করা হয়েছে, অন্যদিকে এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবারও ব্যবস্থা করা হয়। সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতার এমন উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

