কাঞ্চনপুরে ২৭ অক্টোবর থেকে রাজ্যভিত্তিক হজাগিরি উৎসব

কাঞ্চনপুর, ২৬ অক্টোবর  : রিয়াং জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকশিল্পকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে আগামীকাল, ২৭ অক্টোবর থেকে কাঞ্চনপুরে শুরু হতে চলেছে রাজ্যভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী হজাগিরি উৎসব। ত্রিপুরা রাজ্য রিয়াং সোসিও-কালচারাল অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে কাঞ্চনপুর শহর সংলগ্ন উরিছড়া মাঠে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর, দুই দিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই গোটা কাঞ্চনপুর এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আয়োজকদের আশা, এবারের উৎসবে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের সমাগম হবে।

রিয়াং জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী হজাগিরি নৃত্য ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজস্ব নৃত্যশৈলী, ছন্দ, সংগীত ও অসাধারণ শারীরিক ভারসাম্যের মাধ্যমে এই নৃত্য রিয়াং সমাজের ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে তুলে ধরে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উৎসবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। দীর্ঘ ঐতিহ্য বহনকারী এই উৎসব ঘিরে রিয়াং সমাজের পাশাপাশি অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যেও যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে রিয়াং জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী হজাগিরি নৃত্যের পাশাপাশি চাকমা নৃত্য, অসমিয়া নৃত্য এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। এর মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক বর্ণময় চিত্র ফুটে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। ত্রিপুরা, অসম ও মিজোরাম থেকে রিয়াং সমাজের বহু মানুষ এই উৎসবে যোগ দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসবপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়ের। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, কাঞ্চনপুরের বিধায়ক ফিলিপ কুমার রিয়াং-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের। তাঁদের উপস্থিতিতে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এদিকে, সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে উৎসবকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তৎপর হয়েছে কাঞ্চনপুর মহকুমা প্রশাসন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎসব চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেই নয়, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এই উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হজাগিরি নৃত্যের ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও শিল্পকলার সম্মিলন উৎসবকে বিশেষ মাত্রা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজ্যের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের সুযোগ তৈরি হবে।

উৎসবের প্রস্তুতি ও সামগ্রিক আয়োজন সম্পর্কে  বিস্তারিত জানিয়েছেন কাঞ্চনপুর দেড়গাং কমিটির সভাপতি রামমোহন মলসই। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি, আয়োজন এবং এই সাংস্কৃতিক মিলনমেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে, আগামীকাল থেকে উরিছড়া মাঠে শুরু হতে চলা রাজ্যভিত্তিক হজাগিরি উৎসবকে ঘিরে এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কাঞ্চনপুরবাসী। ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, লোকসংস্কৃতি ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আগামী দু’দিন কাঞ্চনপুর পরিণত হতে চলেছে এক বর্ণময় সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা নিয়ে এবারের উৎসব রিয়াং জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির বার্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই আশাবাদী আয়োজকরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *