বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোনামুড়া ইলেকট্রিক অফিসে তালাবন্ধ, বিক্ষোভে উত্তাল গ্রাহকরা

বক্সনগর, ৩ আগস্ট  : অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া ইলেকট্রিক অফিসে তালা ঝুলিয়ে তীব্র বিক্ষোভে সামিল হলেন এলাকার শতাধিক গ্রাহক। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিলের অসঙ্গতি ও অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অফিস চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে সোনামুড়া ও সংলগ্ন এলাকার বহু গ্রাহকের কাছে স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অনেক বেশি অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল পৌঁছাচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খরচে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও বিলের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ নিগমে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকাল থেকেই এলাকাবাসী ও বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সোনামুড়া ইলেকট্রিক অফিসের সামনে জড়ো হন। পরে বিক্ষোভকারীরা অফিসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ নিগমের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহার করতে হবে, সমস্ত বিল পুনর্মূল্যায়ন করে প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যা না হয় তার স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অফিসে তালাবন্ধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাঁদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দ্রুত বিল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। প্রশাসনের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা তালা খুলে দেন এবং কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

এদিকে, এই ঘটনায় বিদ্যুৎ নিগমের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

সোমবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য সোনামুড়া ইলেকট্রিক অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। যদিও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তবুও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ যে চরমে পৌঁছেছে, তা এদিনের বিক্ষোভে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *