আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তেই রাজধানী আগরতলা সংলগ্ন পূর্ব চানমারি এলাকায় বাড়ছে চোরের দৌরাত্ম্য। একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুলিশের উপর আস্থা হারিয়ে রাত জেগে নিজেদের এলাকা নিজেরাই পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু এত সতর্কতার পরও চোরের উপদ্রব বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই রাজধানী ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পুজোর বাজার থেকে শুরু করে মণ্ডপ নির্মাণ—সবকিছু নিয়েই ব্যস্ততা তুঙ্গে। এর মধ্যেই পূর্ব চানমারি এলাকায় চুরির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এনসিসি থানার অন্তর্গত এই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করছে সাধারণ মানুষকে।
চোরের দাপট ঠেকাতে বাধ্য হয়ে রাত জেগে এলাকা পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন রাস্তা ও পাড়ায় নজরদারি চালাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবি, এত কড়া পাহারার মধ্যেও চুরির ঘটনা ঘটায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি শনিবার গভীর রাতে পূর্ব চানমারি এলাকার বাসিন্দা নিভু রানি দেবনাথের বাড়িতে হানা দেয় চোরের দল। বাড়িতে থাকা পুজোর সামগ্রী এবং নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দির থেকেও পুজোর সামগ্রী ও প্রণামীর টাকা চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ধর্মীয় স্থানের সামগ্রী এবং প্রণামীর টাকা পর্যন্ত চুরি হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ বাড়ির মালিক নিভু রানি দেবনাথ।
তিনি জানান, এলাকাবাসীরা রাত জেগে পাহারা দেওয়া সত্ত্বেও চোরেদের দৌরাত্ম্য কমছে না। বরং দুর্গাপূজার দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে বলে তাঁর অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনসিসি থানার পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতি সম্প্রতিই এলাকার একটি বাড়িতে হানা দিয়ে চোরের দল ঘরের প্রায় সবকিছু নিয়ে যায়। অন্য একটি বাড়ি থেকে চুরি হয়েছে একটি বাইকও। পরপর এই ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
গ্রামবাসীদের দাবি, প্রতিটি ঘটনার পরই এনসিসি থানায় খবর দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলেও এসেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও চোরকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ—এমনই অভিযোগ তাঁদের। ফলে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা।
পুজোর আগে বাড়িঘরে নগদ টাকা, নতুন পোশাক, পুজোর সামগ্রীসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র জমতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে চুরির ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাই পুলিশের টহলদারি বাড়ানো, রাতের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলির দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন পূর্ব চানমারির বাসিন্দারা।

