পুজোর থিম উন্মোচনের দিনেই রয়েল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মেগা রক্তদান ও স্বাস্থ্য শিবির

রানিরবাজার, ২ আগস্ট  : শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য নজির গড়ল জিরানিয়া মহকুমার রানিরবাজারের রয়েল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। রবিবার দুর্গাপূজার থিম উন্মোচন উপলক্ষ্যে সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় মেগা রক্তদান শিবির, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির এবং এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি। উৎসবের আবহে এই মানবিক উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, রামকৃষ্ণ মিশনের শুভানন্দ মহারাজ, রয়েল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি রতন দেবনাথ-সহ বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। অতিথিরা যৌথভাবে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবির এবং শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, রানিরবাজারের রয়েল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি প্রতিবছরই জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করে। শুধু পূজার আয়োজনেই নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনেও ক্লাবের সদস্যরা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। গত বছরের পূজো মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। এবারও ক্লাব নতুন ভাবনা ও আকর্ষণ নিয়ে মানুষের সামনে আসতে চলেছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পূজাকে কেন্দ্র করে রক্তদান, স্বাস্থ্য শিবির ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

রামকৃষ্ণ মিশনের শুভানন্দ মহারাজও সমাজসেবামূলক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, উৎসব তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা মানুষের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত হয়। রক্তদান ও শিক্ষাসহায়তার মতো উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।

এদিন আয়োজিত রক্তদান শিবিরে বহু স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। এলাকার আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দিয়ে তাঁদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা হয়।

এদিকে, এবারের দুর্গাপূজায় দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তেলেঙ্গানার বিখ্যাত স্বর্ণ গিরি মন্দিরের আদলে পুজো মণ্ডপ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে থাকবেন বহিঃরাজ্যের অভিজ্ঞ শিল্পীরা। উদ্যোক্তাদের আশা, নান্দনিক শিল্পকর্ম ও অভিনব থিমের সমন্বয়ে এবারের পুজো দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *