আগরতলা, ১ আগস্ট : কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সোনার পদক জিতে দেশ ও ত্রিপুরার মুখ উজ্জ্বল করেছেন অস্মিতা দে। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাজ্যবাসী এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। একইসঙ্গে তিনি জানান, জিমনাস্ট দীপা কর্মকারের মতো অস্মিতা দে যদি ভবিষ্যতে ত্রিপুরায় থেকে নিজের ক্রীড়াজীবন চালিয়ে যেতে চান, তবে রাজ্য সরকার সেই বিষয়ে ইতিবাচকভাবে চিন্তাভাবনা করবে।
শনিবার আগরতলায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিলোনিয়ার মেয়ে অস্মিতা দে শুধু ত্রিপুরার নয়, গোটা দেশের গর্ব। গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগের ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে তিনি ভারতের হয়ে প্রথম মহিলা জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনার পদক জয়ের নজির গড়েছেন। এই ঐতিহাসিক কৃতিত্ব দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অস্মিতার এই অসাধারণ সাফল্য রাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তাঁর এই অর্জন আগামী দিনের অসংখ্য ছেলে-মেয়েকে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যেভাবে অলিম্পিয়ান দীপা কর্মকারের সাফল্য একসময় ত্রিপুরার নতুন প্রজন্মকে জিমন্যাস্টিক্সসহ বিভিন্ন খেলায় উৎসাহিত করেছিল, ঠিক তেমনভাবেই অস্মিতার এই সোনালি জয়ও রাজ্যের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে অস্মিতা দে উত্তর প্রদেশ পুলিশে কর্মরত। নিজের ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের কথা বিবেচনা করেই তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। তবে যদি ভবিষ্যতে তিনি ত্রিপুরায় ফিরে এসে এখান থেকে নিজের ক্রীড়া জীবন এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাহলে রাজ্য সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করবে।
ডাঃ সাহা আরও বলেন, ত্রিপুরায় প্রতিভার কোনও অভাব নেই। রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অসংখ্য প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ উঠে আসছেন। সরকার খেলাধুলার পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। যথাযথ সুযোগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এই প্রতিভারাই আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ত্রিপুরার নাম আরও উজ্জ্বল করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
অস্মিতা দে-র এই ঐতিহাসিক সাফল্যে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে অভিনন্দনের জোয়ার বইছে। ত্রিপুরার কন্যার এই সোনালি জয় শুধু একটি পদক অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা রাজ্যের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন প্রেরণার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে ক্রীড়ামহলের অভিমত।

