আগরতলা, ২২ জুলাই : নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আগরতলায় সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে সামিল হল একদল ছাত্রছাত্রী। বুধবারের এই কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশাল সংখ্যক সিআরপিএফ ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কাঁদানে গ্যাসের সেল-সহ দাঙ্গা মোকাবিলার সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয় বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এই ব্যাপক মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবারের ধারাবাহিকতায় বুধবারও দুপুরের পর সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হন মূলত স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা। হাতে বিভিন্ন দাবি-সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলেন। পাশাপাশি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সোনম ওয়াংচুকের দাবিগুলির প্রতি কেন্দ্রের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান জানান।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এদিনও বিক্ষোভস্থলে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা বা সংগঠনের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এটি সম্পূর্ণ ছাত্রদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি অরাজনৈতিক প্রতিবাদ। জনৈক আন্দোলনকারী বলেন, “আমরা কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে এই আন্দোলন করছি না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
বিক্ষোভ চলাকালীন প্রতিবাদীদের স্লোগান বহু পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রাস্তা দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন অটো ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে সমর্থন জানাতেও দেখা যায়। ফলে সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য প্রতিবাদমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, টানা তিন দিনের এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নানা জল্পনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের কর্মসূচির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ যোগ নেই। রাজনৈতিক ব্যাখ্যা বা সমালোচনায় তাঁরা বিচলিত নন বলেও জানান।
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, প্রতিদিনের ধারাবাহিক বিক্ষোভে আগরতলায় সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকা ধীরে ধীরে দিল্লির যন্তর মন্তরের আদলে প্রতিবাদের একটি প্রতীকী মঞ্চে পরিণত হচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

