আগরতলা, ১০ জুলাই : ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চলেছে। কনক্লেভের মাধ্যমে কৃষি খাতে এখন পর্যন্ত ২৯টি সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ।
শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় এডি নগরস্থিত কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী কালী খাসা চাল, বড়মুড়া ও তৃষ্ণা এলাকার সুগন্ধি লেবু এবং কিল্লার বিখ্যাত কুইন আনারস বিদেশে রপ্তানির শুভ সূচনা করেন কৃষিমন্ত্রী। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিপণন সংস্থা লুলু গ্রুপ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দুই দিনের বিজনেস কনক্লেভ ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার সারাদিনে আরও ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে রাজ্যের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী জানান, বিশ্বখ্যাত লুলু গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল ত্রিপুরায় একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ এবং একটি আধুনিক ‘ফুড প্রসেসিং সেন্টার’ স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের কৃষিজাত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষ করে ত্রিপুরার কুইন আনারাসকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে দুবাইয়ে একটি বিশেষ উৎসব বা ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে লুলু গ্রুপ। ওই উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য ত্রিপুরা সরকারকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।
রতনলাল নাথ বলেন, ত্রিপুরার কৃষিপণ্য এখন আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করছে। রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত উচ্চমানের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্রিপুরার অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও জানান, বিজনেস কনক্লেভে শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, ট্রেড ও পাওয়ার সেক্টরেও ব্যাপক বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই দুই খাতে মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষিমন্ত্রীর মতে, ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ রাজ্যকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং কৃষি থেকে শিল্প—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের নতুন পথ খুলে দেবে।

