আগরতলা, ৫ জুলাই : শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নেশামুক্ত সমাজ গড়ার দাবিকে সামনে রেখে রবিবার আগরতলার বড়দোয়ালি কৃষ্টি ভবনে অনুষ্ঠিত হল ডিওয়াইএফআই-এর ডুকলি বিভাগীয় কমিটির কনভেনশন। “শিক্ষা ও কাজের দাবিতে, নেশার বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র করুন—ডিওয়াইএফআই-এর সদস্য হোন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কনভেনশনে বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন ডুকলি বিভাগীয় কমিটির সভাপতি গৌতম ঘোষ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব, সর্বভারতীয় নেতা সপ্তর্ষি দেব, পশ্চিমবঙ্গের যুব নেত্রী সোনামনি টুডু এবং ডুকলি বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক শুভঙ্কর মজুমদার।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বর্তমান সময়ে রাজ্যের যুব সমাজের সামনে থাকা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তির মতো একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সঙ্কুচিত হওয়ায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে সমাজে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে গণআন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন বক্তারা।
তাঁরা বলেন, শিক্ষা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই অধিক সংখ্যক যুবক-যুবতীকে ডিওয়াইএফআই-এর পতাকাতলে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তাদের মতে, সংগঠিত যুবশক্তিই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট নেতৃত্বদের শহিদ ভগৎ সিংয়ের প্রতিকৃতি সম্বলিত স্মারক উপহার দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এ সময় শহিদ ভগৎ সিংয়ের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
কনভেনশনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা। হাপানিয়া এলাকার বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মনুশ্রী চৌধুরীর চিকিৎসার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও অনুদান সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত সকলের কাছে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। নেতৃত্বরা বলেন, শুধু আন্দোলন নয়, সমাজের অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সংগঠনের অন্যতম দায়িত্ব।
কনভেনশনের শেষে আগামী দিনে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের দাবিতে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃত্ব। পাশাপাশি ডুকলি বিভাগে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

