২২ জুলাই শুরু খার্চি পূজা ও মেলা, উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা

আগরতলা, ৫ জুলাই : ত্রিপুরার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব খার্চি পূজা ও মেলা আগামী ২২ জুলাই থেকে খয়েরপুরের চতুর্দশ দেবতা মন্দির ও মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হবে। সাত দিনব্যাপী এই পূজা ও মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রবিবার চতুর্দশ দেবতাবাড়ি সংলগ্ন পুরাতন আগরতলা ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান এলাকার বিধায়ক তথা খার্চি পূজা ও মেলা কমিটির চেয়ারম্যান রতন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, আগামী ২২ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা খার্চি পূজা ও মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী-সহ রাজ্য সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী, বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

রতন চক্রবর্তী বলেন, এবারের খার্চি পূজা ও মেলা পূজা, প্রদর্শনী এবং বাণিজ্যিক মেলা—এই তিনটি পর্বে সাত দিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের তথ্য নিয়ে প্রদর্শনী স্টল স্থাপন করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও মেলায় অংশগ্রহণ করবে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অন্যান্য বছরের মতো এবারও কৃষ্ণমালা মঞ্চ এবং হাভেলি মঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ত্রিপুরা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় এক হাজার শিল্পী এবারের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মেলায় আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং অগ্নিনির্বাপণ-সহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

স্টল বরাদ্দ প্রসঙ্গে রতন চক্রবর্তী জানান, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবারও ওপেন লটারির মাধ্যমে স্টল বণ্টন করা হবে। আগামী ১৯ জুলাই এই লটারির আয়োজন করা হবে।

এছাড়া পর্যটন দফতরের উদ্যোগে চতুর্দশ দেবতা মন্দিরকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তবে খার্চি পূজা ও মেলা উপলক্ষ্যে আপাতত সংস্কারকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। মেলা শেষ হওয়ার পর পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রাজ্য এবং রাজ্যের বাইর থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত, পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে। ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে এবারের খার্চি পূজা ও মেলাও সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *