নিরাপদ রাস্তার দাবিতে তেলিয়ামুড়ায় ৩ ঘণ্টার রেল অবরোধ, থমকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেন

তেলিয়ামুড়া, ৫ জুলাই : নিরাপদ যাতায়াতের দাবিতে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রবিবার রেল অবরোধের মাধ্যমে বিস্ফোরিত হল খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া থানাধীন লাখাই বাজার সংলগ্ন দুখাই জমাদার পাড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের জেরে প্রায় তিন ঘণ্টা রেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস-সহ শিলচর-আগরতলা এক্সপ্রেস দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। এতে শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিলন মালাং বাজার থেকে দুষ্কি যাওয়ার প্রধান সড়কের মাঝ বরাবর প্রায় ১৫ বছর আগে রেলপথ নির্মাণ করা হলেও আজ পর্যন্ত নিরাপদ পারাপারের কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার মানুষ। এই অব্যবস্থার কারণে ইতিমধ্যেই ট্রেনের ধাক্কায় একাধিক গবাদি পশু ও কয়েকজন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। বহুবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রেল অবরোধের পথ বেছে নেন তাঁরা।

রবিবার সকাল থেকে রেললাইনের উপর অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হলে রাজ্যের রেল পরিষেবা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস অবরোধস্থলে দাঁড়িয়ে থাকে। একইসঙ্গে শিলচর-আগরতলাগামী যাত্রীবাহী ট্রেনও তেলিয়ামুড়া স্টেশনে দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে।

এর ফলে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে যেসব যাত্রীর আগরতলা থেকে বিমানে যাত্রার নির্ধারিত সময় ছিল, তাঁরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে রওনা দিতে বাধ্য হন। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা তেলিয়ামুড়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং দ্রুত রেল চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান। একসময় স্টেশন চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তেলিয়ামুড়ার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোহন কিষাণ, খোয়াই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাস্টিন জোসেফ, জিআরপি থানার আইসি ইন্টু মারাক, আরপিএফ এবং রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও দফায় দফায় বৈঠকের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নিয়ে বৈঠক করে নিরাপদ রাস্তা নির্মাণসহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রশাসনের লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হলেও কেন এখনও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা গেল না। প্রশাসনের আশ্বাস এবার বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায়, সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *