১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের আশা: মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ৫ জুলাই : আগামী ৯ ও ১০ জুলাই হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ-২০২৬’। এই কনক্লেভকে ঘিরে রবিবার আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন দফতরের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য বিনিয়োগ, বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এবং সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় এবং রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিএসডিপি) বৃদ্ধির জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, রাজ্যে এই প্রথম এত বৃহৎ পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের বিজনেস কনক্লেভের আয়োজন করা হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক উদ্যোগ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারের কনক্লেভে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন সরকারি দফতর ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবহন, পর্যটন, পুনর্নবীকরণ শক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, রিয়েল এস্টেট, চা, রাবার ও আগরভিত্তিক শিল্পে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, গত বছরের বিজনেস কনক্লেভে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ে শুরু হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির অন্যতম প্রমাণ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। তাঁর নেতৃত্বে জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারি কর্মচারী—সকলের মধ্যেই দেশের উন্নয়নে কাজ করার নতুন মানসিকতা গড়ে উঠেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জি-২০ এবং নর্থ ইস্ট কাউন্সিলের প্লেনারি বৈঠকের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনের সময় রাজ্যের সরকারি কর্মীরা ‘টিম ত্রিপুরা’ হিসেবে একযোগে কাজ করেছেন। একইভাবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের বিজনেস কনক্লেভও সফল হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
সভার শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী নির্মীয়মাণ বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে জানান, আগামী ৯ জুলাই বিকেলে কনক্লেভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা ছাড়াও কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সরকারি দফতর এবং কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর সংস্থার ২০টিরও বেশি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী স্টল স্থাপন করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ৫০০ জন প্রতিনিধি কনক্লেভে অংশ নেবেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স, কাজাখস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল এবং উজবেকিস্তানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিরাও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, হাইকমিশন এবং কনস্যুলেটের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দুই দিনের এই কনক্লেভে বিভিন্ন প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিদের সরাসরি বৈঠক, রাউন্ড টেবিল ডিনার, সেক্টরভিত্তিক উপস্থাপনা, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে বিশেষ আলোচনা, এবং একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
পর্যালোচনা সভায় মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, এই কনক্লেভের সফল আয়োজন দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও ত্রিপুরার ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে। তিনি জানান, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনি সরলীকরণের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা বর্তমানে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলির অন্যতম। এই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদেরও কনক্লেভে যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
সভায় রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগসহ বিভিন্ন দফতরের সচিবরা নিজ নিজ বিভাগের সম্ভাব্য বিনিয়োগ, এমওইউ স্বাক্ষর এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এছাড়া বিধায়ক মীনারানি সরকার, প্রধান সচিব শাম্ভুনু এবং বিভিন্ন দফতরের সচিব, অধিকর্তা ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

