ভক্তি-আনন্দে উদযাপিত জগন্নাথের স্নানযাত্রা, মুখর জগন্নাথ জিউ মন্দির

আগরতলা, ২৯ জুন : জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান জগন্নাথের ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষ্যে সোমবার ভক্তি ও ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে রাজধানী আগরতলায় জগন্নাথ জিউ মন্দির চত্বর। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শাস্ত্রবিধি মেনে ভগবান জগন্নাথ, বড়ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রার মহাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকেই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। নারী, পুরুষ, শিশু-সহ বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষ এই পবিত্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পূজা-অর্চনা ও দর্শনের মাধ্যমে আশীর্বাদ লাভ করেন।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্নানযাত্রা। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, কীর্তন ও পূজার্চনার পরিবেশে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দেবতাদের স্নান করানো হয়। স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। ভক্তদের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

জগন্নাথ জিউ মন্দিরের অধ্যক্ষ ভক্তি কমল মহারাজ জানান, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত এই স্নানযাত্রা ভগবান জগন্নাথের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই মহোৎসবে অংশগ্রহণ ও দর্শনের মাধ্যমে ভক্তরা আধ্যাত্মিক শান্তি ও ভক্তি লাভ করেন। তিনি বলেন, ভগবান জগন্নাথের কৃপায় মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং সমগ্র রাজ্যের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এই উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে।

তিনি আরও জানান, স্নানযাত্রার পর প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা ‘অনবসর’ পর্বে প্রবেশ করেন। এই সময় তাঁরা অসুস্থতার প্রতীকী রূপে নির্দিষ্ট কয়েকদিন জনসাধারণের দর্শনের বাইরে থাকেন। এরপর নবযৌবন দর্শনের মধ্য দিয়ে আবার ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হন এবং পরবর্তীতে রথযাত্রা উৎসবের মাধ্যমে শ্রীগুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। ভক্তরা সুশৃঙ্খলভাবে প্রসাদ গ্রহণ করেন এবং ভগবানের আশীর্বাদ লাভের প্রার্থনা করেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ভক্তদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসরণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো ত্রিপুরাতেও প্রতি বছর জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা মহাসমারোহে পালিত হয়। রাজধানীর জগন্নাথ জিউ মন্দিরে এই উৎসব রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রতি বছর হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *