আগরতলা, ৪ নভেম্বর : রাজধানী আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে পার্কিং ফি আদায়কে কেন্দ্র করে বিলোনিয়া মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিলাঞ্জনা ভট্টাচার্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পার্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে। একজন মহিলা সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ ঘিরে রেলস্টেশনের নিরাপত্তা, পার্কিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার ভোরে মাকে সঙ্গে নিয়ে বিলোনিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে উবের অটোতে আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনে যাচ্ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিলাঞ্জনা ভট্টাচার্য। স্টেশনের গেটের কাছে কয়েকজন অটোচালক ওই অটোটি দাঁড় করিয়ে পার্কিং ফি দাবি করেন। অটোচালক জানান, তিনি পার্কিং এলাকায় প্রবেশ করবেন না, তাহলে কেন তাঁকে পার্কিং ফি দিতে হবে? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বচসা।
অভিযোগ, পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা দুই কর্মী অটোচালককে জোর করে পার্কিং এলাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ট্রেন ধরার তাড়ায় নিলাঞ্জনা ভট্টাচার্য তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “দাদা, আমার ট্রেন ছুটে যাবে। এইভাবে করাটা আপনাদের উচিত নয়।”
কিন্তু তাঁর এই অনুরোধের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। কয়েকজন অটোচালক ও পার্কিং কর্মী তাঁর সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। এমনকি তাঁকে তুই-তুকারি করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ।
এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ, পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা জনৈক মহিলা কর্মী নিলাঞ্জনা ভট্টাচার্যকে টেনে-হিঁচড়ে অটো থেকে নামিয়ে পিঠে আঘাত করেন চুল ধরে টানাটানি করেন। একজন মহিলা সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে প্রকাশ্যে এমন আচরণের অভিযোগে রেলস্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিপম চাকমা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিষয়টি পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমারকে জানানো হলে তাঁর নির্দেশে একটি প্রশাসনিক দল ঘটনাস্থলে যায়। অতিরিক্ত জেলাশাসক সুভাষ দত্ত, ডুকলি সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিক সেখানে পৌঁছান। পরবর্তী সময়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিলাঞ্জনা ভট্টাচার্য জিআরপিএস পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিলাঞ্জনা ভট্টাচার্য জানান, পার্কিং ফি বাবদ যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তার কোনও নির্দিষ্ট বোর্ড কিংবা লিখিত নির্দেশিকা তাঁর চোখে পড়েনি। নির্ধারিত ফি-র তালিকা বা লিখিত নথি ছাড়া কীভাবে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনের পার্কিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্টেশনে পার্কিং ফি আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়ম ও নির্ধারিত মূল্যতালিকা রয়েছে কি না, যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।
পার্কিং ফি আদায়ের নামে যাত্রীদের হয়রানি কিংবা স্বেচ্ছাচারিতা চলছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
একজন দায়িত্বরত মহিলা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ যদি রেলস্টেশন চত্বরে ওঠে, তাহলে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়।

