নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সোনম ওয়াংচুক ইস্যুতে সার্কিট হাউস এলাকায় বিক্ষোভ

আগরতলা, ২১ জুলাই : নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সোনম ওয়াংচুক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আগরতলায় সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভে সামিল হল একদল ছাত্রছাত্রী। মঙ্গলবারের এই কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। বিপুল সংখ্যক সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয় এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল-সহ দাঙ্গা মোকাবিলার সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে “অগণতান্ত্রিক” আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।

সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে ছাত্রছাত্রীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের বিভিন্ন দাবির প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন তাঁরা।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, বিক্ষোভস্থলে এদিন কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা বা সংগঠনের ব্যানার দেখা যায়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও অরাজনৈতিক উদ্যোগ। বিক্ষোভ চলাকালীন বহু পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিবাদী স্লোগান। কয়েকজন অটোযাত্রীকে হাত নেড়ে আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানাতেও দেখা যায়।

জনৈক আন্দোলনকারী ছাত্র জানান, “আমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। সোমবার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী মাত্র দুই মিনিটের জন্য এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলে চলে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকে সিপিআই(এম) পরিচালিত বলে যে প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে মাত্র ৫০ জন ছাত্রছাত্রী শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে। অথচ আমাদের দমাতে এক বাস ভর্তি সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের হাতে কাঁদানে গ্যাসের সেলও রয়েছে। মাত্র ৫০ জনের জন্য যদি এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী প্রতিবাদে সামিল হলে প্রশাসন কি দিল্লির যন্তর মন্তরের মতো লাঠিচার্জ করবে? গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে।”

প্রতিবাদীদের অভিযোগ, সরকার ছাত্রসমাজের ন্যায্য দাবির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থেই পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, এই ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আন্দোলনের পেছনে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে আন্দোলনকারীরা এসব বিতর্কে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁদের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ক্রমশই সার্কিট হাউস সংলগ্ন এলাকা প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।  এই কর্মসূচির পর অনেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরের সঙ্গে আগরতলার এই প্রতিবাদস্থলের তুলনা টানতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *