আগরতলা, ১৬ জুলাই : দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা কাটিয়ে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করল রাজধানীর পুরনো মোটরস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী নৃসিংহ দেবতা ও শ্রীশ্রী রামজানকি মন্দির। পবিত্র রথযাত্রার শুভক্ষণে বৃহস্পতিবার মন্দিরে রাম-সীতা, লক্ষ্মণ ও হনুমানের মূর্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
রাজধানীর ব্যস্ততম পুরনো মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত এই মন্দির বহু বছরের ইতিহাস বহন করে চলেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, স্বাধীনতারও আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই মন্দির। দীর্ঘ সময় ধরে এটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে এবং সংস্কারের অভাবে তার ঐতিহ্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, এই মন্দিরের সঙ্গে তাঁর শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ৬৫ থেকে ৬৭ বছর আগে পরিবারের গুরুজনদের হাত ধরে তিনি এই মন্দিরে আসতেন এবং সন্ধ্যাবেলায় এখানে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় পাঠ ও ভজন-সঙ্গীতে অংশ নিতেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত মন্দিরকে নতুন রূপে ফিরে পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত বলে জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ ও নির্দেশে সম্প্রতি মন্দিরটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়। সংস্কারের পর মন্দির প্রাঙ্গণে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয় শ্রীশ্রী নৃসিংহ দেবতা, রাম, সীতা, লক্ষ্মণ এবং ভগবান হনুমানের মূর্তি। রথযাত্রার পবিত্র দিনে মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মূর্তিগুলির উদ্বোধন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার, জেলা পুলিশ সুপার নমিত পাঠকসহ প্রশাসনের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে বহু ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মন্দির উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে মন্দিরটির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সরকারের উদ্যোগ নয়, স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনাগুলিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে একই এলাকার একটি জরাজীর্ণ কালী মন্দিরও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। এবার নৃসিংহ দেবতা ও রামজানকি মন্দিরের পুনর্জাগরণে স্বাভাবিকভাবেই খুশি এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, নবকলেবরে সজ্জিত এই মন্দির শুধু ধর্মীয় ভাবাবেগই নয়, রাজধানীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাকেও আরও সমৃদ্ধ করবে।

