আগরতলা, ১৩ জুলাই : টানা ভারী বর্ষণের জেরে সদর মহকুমার অন্তর্গত কাঞ্চনমালা বাজারের পূর্ব বাজার এলাকায় একাধিক বাড়ি ও দোকানে বৃষ্টির জমা জল প্রবেশ করেছে। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার জনৈক ব্যক্তির পুকুর খননের সময় জল নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না রাখার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মৌসুমী বায়ু প্রবাহের সক্রিয়তার কারণে কয়েকদিন ধরে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এরই প্রভাবে কাঞ্চনমালা বাজার সংলগ্ন পূর্ব বাজার এলাকায় বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির জল জমে যায়। ধীরে ধীরে সেই জল আশপাশের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। ফলে এলাকার বহু পরিবারকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথমবারের মতো কাঞ্চনমালা পূর্ব বাজার এলাকায় এত বড় আকারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাসিন্দা লিল্টু দেবনাথ তাঁর নিজস্ব জমিতে পুকুর খনন করেন। কিন্তু পুকুর খননের সময় জমে থাকা বৃষ্টির জল বেরিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও ড্রেন বা বিকল্প জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়নি। এর ফলেই ভারী বৃষ্টির জল সংশ্লিষ্ট এলাকায় জমে থেকে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
জমা জল বাড়িঘরে প্রবেশ করায় বেশ কয়েকটি বাড়ির দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় জল জমে থাকার কারণে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ।
এদিকে, কাঞ্চনমালা বাজারের একটি রেশন দোকানেও জল ঢুকে পড়ায় খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিক্রমনগর তহশিল অফিসের আধিকারিক এবং ডুকলি রেভিনিউ সার্কেলের ডিসিএম। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের নিয়ে কাঞ্চনমালা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জল নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে এলাকাবাসীর একটাই দাবি, দ্রুত জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের জলাবদ্ধতা আর না হয় তার জন্য প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।

