আগরতলা, ১৩ জুলাই : প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (টিবিএসই) পরিচালিত উচ্চমাধ্যমিকের “বছর বাঁচাও” পরীক্ষার সোমবারের নির্ধারিত সমস্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলি আগামী ১৫ জুলাই একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পর্ষদের সভাপতি ডঃ ধনঞ্জয় গণ চৌধুরী।
সোমবার উচ্চমাধ্যমিকের ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষায় তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিষয়গুলি হল গণিত, ভূগোল এবং শিক্ষাবিজ্ঞান। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে বহু পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের পক্ষে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে পরীক্ষা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে একাধিক ফোন আসে পর্ষদ সভাপতির কাছে। পাশাপাশি শিক্ষা দফতরের অধিকর্তা এবং কয়েকটি জেলার জেলাশাসকরাও বর্তমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরীক্ষা বাতিলের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সকাল ১০টা নাগাদ জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করে সোমবারের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থগিত হওয়া তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা আগামী ১৫ জুলাই একই সময়সূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে অনুষ্ঠিত হবে।
পর্ষদ সভাপতি ডঃ ধনঞ্জয় গণ চৌধুরী জানান, পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দুর্যোগজনিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি সকল পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নতুন পরীক্ষার তারিখ ও সময় সম্পর্কে অবগত থাকার জন্য অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই থেকে রাজ্যের ২৬টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষা শুরু হয়। এর মধ্যে ১০ জুলাই মাধ্যমিকের ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৪ জুলাই উচ্চমাধ্যমিকের ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সোমবারের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় এখন আগামী ১৫ জুলাই পুনঃনির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই উচ্চমাধ্যমিকের ‘বছর বাঁচাও’ পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এ বছর উচ্চমাধ্যমিকের বছর বাঁচাও পরীক্ষায় মোট ১,৫৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে বলে পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে।

