পুরভোটের আগে কুমারঘাটে পুলিশের ফ্ল্যাগমার্চ, নিরাপত্তা জোরদারের বার্তা

কুমারঘাট , ৩ নভেম্বর: আসন্ন পুর নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে তৎপর ঊনকোটি জেলা পুলিশ প্রশাসন। ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমারঘাট পুর এলাকায় ফ্ল্যাগমার্চ করল পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার রিশবের নেতৃত্বে পুর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করেন নিরাপত্তা বাহিনী। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ২৭ নভেম্বর ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচন। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট পুর পরিষদের ১৫টি আসনেও ওই দিন ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার ও কর্মসূচি ক্রমশ বাড়তে থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা পুলিশ। ভোটাররা যাতে কোনওরকম ভয়ভীতি, বাধা বা প্রভাব ছাড়াই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ফ্ল্যাগমার্চের আয়োজন।

ফ্ল্যাগমার্চে জেলা পুলিশ সুপার রিশবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুমারঘাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডেভিড দেববর্মা, কুমারঘাট থানার ওসি সঞ্জয় দাস-সহ জেলা ও মহকুমা পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। পুলিশ বাহিনীর এই টহল পুর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল স্থানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার বার্তা দেয়।

জেলা পুলিশ সুপার জানান, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ফ্ল্যাগমার্চের মূল উদ্দেশ্য। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। স্ট্রংরুম, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং প্রতিটি পোলিং স্টেশনে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি থাকবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফ্ল্যাগমার্চের মাধ্যমে জেলা পুলিশ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার কোনও প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে নির্ভয়ে ভোটদানে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় থাকবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *