বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলায় ক্ষুব্ধ প্রাক্তন জওয়ানরা, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি

আগরতলা, ৩ নভেম্বর  : ত্রিপুরায় বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করল প্রাক্তন বিএসএফ কর্মীদের সংগঠন। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উপর এ ধরনের হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সংগঠন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অভিযুক্তকে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি গৌতম সিনহা এই দাবি জানান। তিনি বলেন, ত্রিপুরার মাটিতে বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুর্ভাগ্যজনক। এর আগে রাজ্যে বিএসএফ কর্মীদের উপর এ ধরনের ঘটনা তাঁরা প্রত্যক্ষ করেননি বলেও জানান তিনি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএসএফ জওয়ানরা দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে নিজেদের পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত এই জওয়ানদের উপর হামলা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উপর আঘাত নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মর্যাদার উপরও আঘাত। তাই এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, হামলার ঘটনায় যে বা যারা জড়িত রয়েছে, তারা যে রাজনৈতিক দল বা পক্ষেরই হোক না কেন, প্রত্যেক অভিযুক্তকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন।

এদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে আগামী ১২ থেকে ১৮ নভেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও এই বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, বিএসএফ-এর মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

সংগঠনের নেতাদের আশঙ্কা, আজ বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলা হয়েছে, আগামী দিনে সিআরপিএফ কিংবা এসএসবি-র মতো অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও একই ধরনের হামলার শিকার হতে পারেন। তাই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সম্মান, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলার ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন অভিযুক্তদের রক্ষা করতে না পারে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমেই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন প্রাক্তন বিএসএফ কর্মীরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *