আগরতলা, ২৪ অক্টোবর : দুর্গাপ্রতিমার ভাসান পর্ব সম্পন্ন হতেই হাওড়া নদীর জলদূষণের মাত্রা নিরূপণে তৎপর হল ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। দুর্গাপুজোর আগে নদীর জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর এবার ভাসান-পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। শুধু নদীর জলই নয়, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মাত্রা নিরীক্ষণেও নজর রাখছে পর্ষদ। উৎসবের আগে ও পরে পরিবেশের অবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।
শনিবার পর্ষদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগরতলার দশমী ঘাটে পৌঁছে হাওড়া নদীর জল সংগ্রহ করে। সংগৃহীত নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন গৌতম ঘোষ, ডঃ রাজীব পাল, রতন দেবনাথ এবং প্রজেক্ট অফিসার প্রসেনজিৎ দাস। দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জনের পর নদীর জলের গুণমান কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, পরীক্ষার ফলাফল থেকে তার একটি ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন দশমী ঘাটে নদীর জলের নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে পর্ষদের পক্ষ থেকে ডঃ রাজীব পাল জানান, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা অনুসারে প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এই নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে হাওড়া নদীর জল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এবার প্রতিমা বিসর্জনের পর পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে পুজোর আগে ও বিসর্জনের পর নদীর জলের গুণমানের মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে, তা তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, শনিবার থেকেই নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হলেও আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে নদীর জল সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হবে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে পুজোর আগে ও পরের পরিস্থিতি নিয়ে একটি তুলনামূলক প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেই প্রতিবেদন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হবে।
দুর্গাপুজোর সময় প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে নদীতে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও প্রতিমার অবশিষ্টাংশ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে নদীর জলের গুণমানে কোনও পরিবর্তন ঘটছে কি না, তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাই করা পরিবেশ পর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শুধুমাত্র বিসর্জনের পর একদিন নমুনা সংগ্রহ করেই কাজ শেষ করতে চাইছে না পর্ষদ। আগামী কয়েক দিন ধরে নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে নদীর জলের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডঃ রাজীব পাল আরও জানান, জলদূষণ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বায়ু ও শব্দদূষণ নিরীক্ষণের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে পর্ষদ। গণেশপুজো থেকেই এই দুই ধরনের দূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে সময়ে সময়ে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে।
পর্ষদের এই পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি কেবল আগরতলা শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কুমারঘাট, উদয়পুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানেও নদীর জল, বায়ু এবং শব্দদূষণের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে। উৎসবের মরশুমে পরিবেশের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো ও প্রতিমা বিসর্জন পরবর্তী সময়ে হাওড়া নদীর পরিবেশগত পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। এখন পরীক্ষাগারের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। সেই রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে, বিসর্জনের আগে ও পরে নদীর জলের গুণমানে কতটা পরিবর্তন ঘটেছে এবং পরিবেশের উপর তার কী প্রভাব পড়েছে।

