বেহাল রাস্তায় চরম দুর্ভোগ, মরণফাঁদে পরিণত বামুটিয়ার মণিপুরপাড়া সংযোগ সড়ক

আগরতলা, ১৩ জুলাই : পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বামুটিয়া ব্লকের অধীন পূর্ব বামুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আগরতলা- বামুটিয়া প্রধান সড়ক থেকে মণিপুরপাড়া পর্যন্ত ইটের সলিং রাস্তা প্রায় দেড় বছর ধরে মেরামতের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।  সংস্কারের অভাবে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভেঙে পড়েছে একাধিক কালভার্ট।  ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।  রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে।  কোথাও কোথাও রাস্তার দুই পাশ ধসে পড়তে শুরু করেছে।  বিশেষ করে বর্ষার সময় বৃষ্টির জল জমে গর্তগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায় বহুগুণ।

এলাকাবাসীরা জানান, এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন বহু স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া যাতায়াত করে।  এছাড়াও রোগী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং কর্মজীবী মানুষদের নিত্যদিন এই পথ ব্যবহার করতে হয়।  কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।  জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা দমকলের গাড়ির চলাচলও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, পূর্ব বামুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের বাড়িও এই রাস্তার পাশেই অবস্থিত।  তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কারের জন্য কোনও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।  একাধিকবার প্রশাসনিক কর্তারা রাস্তার পরিমাপ ও পরিদর্শন করলেও আজ পর্যন্ত সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কাজের কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।  ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।  বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।  শিশু ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অবিলম্বে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন পূর্ব বামুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।  এখন প্রশাসন কবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *